মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere)
মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere) : বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর
মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere) হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় বা মধ্যবর্তী স্তর, যা স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঠিক ওপরে এবং থার্মোস্ফিয়ারের নিচে অবস্থিত। গ্রিক শব্দ "Mesos" এর অর্থ "মধ্যভাগ"। সেখান থেকেই এই স্তরের নামকরণ করা হয়েছে।
1. উচ্চতা ও সীমানা
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের শেষ সীমানা অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের 50 কিলোমিটার থেকে শুরু করে প্রায় 80 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তরটি বিস্তৃত।
- নিচের সীমানা: স্ট্র্যাটোপজ (Stratopause)
- উপরের সীমানা: মেসোপজ (Mesopause)
2. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
🌡️ বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্থান
মেসোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। মেসোপজে তাপমাত্রা কমে প্রায় -90°C থেকে -100°C পর্যন্ত নেমে যায়। এটিই সমগ্র বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতল অঞ্চল।
☄️ উল্কাপাত থেকে সুরক্ষা
মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা (Meteoroids) তীব্র গতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, সেগুলো এই স্তরে এসে বাতাসের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমরা রাতে আকাশ থেকে যেটিকে "তারা খসা" বা উল্কাপাত বলি, তা মূলত এই মেসোস্ফিয়ারেই ঘটে। ফলে এই স্তরটি পৃথিবীকে মহাজাগতিক আঘাত থেকে রক্ষা করে।
☁️ নক্টাইলুসেন্ট মেঘ (Noctilucent Clouds)
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উঁচুতে গঠিত এক ধরণের অত্যন্ত দুর্লভ এবং মনোমুগ্ধকর মেঘ। ল্যাটিন শব্দ "Noctilucent" এর অর্থ হলো "রাত্রিকালীন উজ্জ্বলতা" বা "যা রাতে জ্বলে"।গ্রীষ্মকালে মেরু অঞ্চলের ওপর মেসোস্ফিয়ারের উপরিভাগে বরফ কুচি দিয়ে তৈরি এক ধরণের বিশেষ চকচকে মেঘ দেখা যায়, যা 'নক্টাইলুসেন্ট মেঘ' নামে পরিচিত। ভূপৃষ্ঠে যখন সূর্য ডুবে যায় এবং চারপাশ অন্ধকার হয়ে পড়ে, তখনো মেসোস্ফিয়ারের চরম উচ্চতায় সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে। নিচের অন্ধকার আকাশকে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করে এই মেঘগুলো তখন সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বলভাবে জ্বলজ্বল করে।
🧊 মেসোস্ফিয়ার অত্যন্ত শুষ্ক একটি স্তর, যেখানে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। তাহলে সেখানে Noctilucent মেঘ তৈরি হয় কীভাবে?
মেসোস্ফিয়ার অত্যন্ত শুষ্ক হলেও সেখানে অতি সামান্য জলীয় বাষ্প বিদ্যমান থাকে।
মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা (Meteors) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সেগুলোর অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা মেসোস্ফিয়ারে ভেসে বেড়ায়। গ্রীষ্মকালে মেসোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা যখন মাইনাস ১০০° সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, তখন সেখানে থাকা সামান্য জলীয় বাষ্প ওই উল্কার ধূলিকণাকে কেন্দ্র করে জমে বরফে পরিণত হয়। কোটি কোটি এই ক্ষুদ্র বরফ কুচি একত্র হয়েই নক্টাইলুসেন্ট মেঘ তৈরি করে। মেসোস্ফিয়ার যত ঠান্ডা হবে, এই মেঘ তৈরি হওয়া তত সহজ হবে।
3. এই স্তরে গবেষণা করা কেন কঠিন?
বিজ্ঞানীরা মেসোস্ফিয়ারকে মজা করে "ইগনোরোস্ফিয়ার (Ignorosphere)" বলে থাকেন।
- বাণিজ্যিক বিমান ও আবহাওয়া বেলুন ৫০ কিমির বেশি উচ্চতায় উঠতে পারে না।
- কৃত্রিম উপগ্রহ এত নিচে নামতে পারে না, কারণ বায়ুর ঘর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- তাই তথ্য সংগ্রহের জন্য Sounding Rocket ব্যবহার করা হয়।
📝 সংক্ষিপ্তসার
মেসোস্ফিয়ার হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর, যা 50–85 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতল অঞ্চল, যেখানে অধিকাংশ উল্কা পুড়ে যায় এবং নক্টাইলুসেন্ট মেঘ গঠিত হয়। গবেষণার জন্য এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে কঠিন স্তরগুলোর একটি।
🛰️ MCQ on Mesosphere (মেসোস্ফিয়ার)
1. বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তরের নাম কী?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) মেসোস্ফিয়ার
D) থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর: C) মেসোস্ফিয়ার
2. মেসোস্ফিয়ার কোন দুটি স্তরের মধ্যে অবস্থিত?
A) ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ার
C) থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার
D) ট্রপোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর: B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ার
3. মেসোস্ফিয়ার সাধারণত কত কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত?
A) 12–50 km
B) 50–85 km
C) 85–600 km
D) 600–1000 km
উত্তর: B) 50–85 km
4. মেসোস্ফিয়ারের নিচের সীমার নাম কী?
A) ট্রপোপজ
B) মেসোপজ
C) স্ট্র্যাটোপজ
D) থার্মোপজ
উত্তর: C) স্ট্র্যাটোপজ
5. মেসোস্ফিয়ারের উপরের সীমার নাম কী?
A) ট্রপোপজ
B) মেসোপজ
C) স্ট্র্যাটোপজ
D) এক্সোবেস
উত্তর: B) মেসোপজ
6. মেসোস্ফিয়ারে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা—
A) বৃদ্ধি পায়
B) অপরিবর্তিত থাকে
C) হ্রাস পায়
D) প্রথমে বাড়ে পরে কমে
উত্তর: C) হ্রাস পায়
7. বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতল অঞ্চল কোনটি?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) মেসোপজ
D) থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর: C) মেসোপজ
8. মেসোপজে তাপমাত্রা প্রায় কত হতে পারে?
A) 0°C
B) –20°C
C) –50°C
D) –90°C থেকে –100°C
উত্তর: D) –90°C থেকে –100°C
9. "তারা খসা" বা Shooting Star আসলে কোথায় ঘটে?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) মেসোস্ফিয়ার
D) থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর: C) মেসোস্ফিয়ার
10. পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা অধিকাংশ উল্কা কোথায় পুড়ে যায়?
A) ট্রপোস্ফিয়ার
B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
C) মেসোস্ফিয়ার
D) এক্সোস্ফিয়ার
উত্তর: C) মেসোস্ফিয়ার
Assertion–Reason MCQ
11. Assertion (A): মেসোস্ফিয়ার পৃথিবীকে উল্কাপাতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
Reason (R): অধিকাংশ উল্কা মেসোস্ফিয়ারে বায়ুর ঘর্ষণে পুড়ে যায়।
A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R হলো A-এর সঠিক ব্যাখ্যা
B) A ও R উভয়ই সত্য কিন্তু R সঠিক ব্যাখ্যা নয়
C) A সত্য, R মিথ্যা
D) A মিথ্যা, R সত্য
উত্তর: A
12. Assertion (A): নক্টাইলুসেন্ট মেঘ রাতের আকাশে উজ্জ্বল দেখায়।
Reason (R): সূর্যাস্তের পরও মেসোস্ফিয়ারের উচ্চতায় সূর্যের আলো পৌঁছায়।
A) A ও R উভয়ই সত্য এবং R হলো A-এর সঠিক ব্যাখ্যা
B) A ও R উভয়ই সত্য কিন্তু R সঠিক ব্যাখ্যা নয়
C) A সত্য, R মিথ্যা
D) A মিথ্যা, R সত্য
উত্তর: A