Exosphere (এক্সোস্ফিয়ার) বা বহির্মণ্ডল


Exosphere (এক্সোস্ফিয়ার) হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বাইরের বা সর্বোচ্চ স্তর। এটি থার্মোস্ফিয়ারের ওপর থেকে শুরু করে মহাশূন্যের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যের মধ্যকার সংযোগস্থল হিসেবে এই স্তরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সংজ্ঞা: এক্সোস্ফিয়ার হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তর, যেখানে বায়ুর ঘনত্ব অত্যন্ত কম এবং যা ধীরে ধীরে মহাশূন্যের সাথে মিশে যায়।

1. উচ্চতা ও সীমানা

  • ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 500–1,000 কিলোমিটার উচ্চতায় এই স্তর শুরু হয়।
  • এর নিচের সীমানাকে এক্সোবেস (Exobase) বা থার্মোপজ (Thermopause) বলা হয়।
  • এক্সোস্ফিয়ারের কোনো নির্দিষ্ট উপরের সীমা নেই।
  • এটি ধীরে ধীরে মহাশূন্যের সাথে মিশে যায়।
  • সাধারণত এর বিস্তার প্রায় 10,000 কিলোমিটার পর্যন্ত ধরা হয়।

2. উপাদান ও ঘনত্ব

অত্যন্ত কম ঘনত্ব

এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব এতটাই কম যে এটি প্রায় একটি শূন্যস্থান (Vacuum) হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্যাসীয় কণাগুলো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে, ফলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ খুবই বিরল।

প্রধান গ্যাসসমূহ

  • হাইড্রোজেন (H)
  • হিলিয়াম (He)
  • সামান্য পরিমাণে পারমাণবিক অক্সিজেন (O)
  • সামান্য পরিমাণে নাইট্রোজেন (N)
মনে রাখুন: এক্সোস্ফিয়ারে প্রধানত সবচেয়ে হালকা গ্যাস হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পাওয়া যায়।

3. তাপমাত্রা

সূর্যের সরাসরি বিকিরণের কারণে এই স্তরের তাপমাত্রা তাত্ত্বিকভাবে 1500°C বা তারও বেশি হতে পারে।

তবে এখানে গ্যাসীয় কণার সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় এই তাপ অনুভূত হয় না। তাপ পরিবহন করার মতো পর্যাপ্ত অণু না থাকায় কোনো বস্তু এখানে বাস্তবে খুব ঠান্ডা অনুভব করবে।

৪. মহাজাগতিক মুক্তি (Atmospheric Escape)

এক্সোস্ফিয়ারে পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। ফলে হালকা গ্যাস যেমন হাইড্রোজেন পর্যাপ্ত গতিশক্তি অর্জন করে পৃথিবীর মহাকর্ষ অতিক্রম করে মহাশূন্যে চলে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে গ্যাসের ধীরে ধীরে মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়ার প্রধান অঞ্চল হলো এক্সোস্ফিয়ার।

৫. কৃত্রিম উপগ্রহের কক্ষপথ (Satellite Orbit Zone)

এক্সোস্ফিয়ারে বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণ (Atmospheric Drag) প্রায় নেই বললেই চলে। তাই এই অঞ্চল কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

  • আবহাওয়া উপগ্রহ (Weather Satellites)
  • যোগাযোগ উপগ্রহ (Communication Satellites)
  • মহাকাশ গবেষণা যান (Spacecraft)
  • নেভিগেশন উপগ্রহ (GPS Satellites)

এখানে উপগ্রহগুলো দীর্ঘ সময় ধরে খুব কম শক্তি ব্যয় করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে পারে।

এক্সোস্ফিয়ারের গুরুত্ব

  • পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যের মধ্যবর্তী সংযোগ অঞ্চল।
  • উপগ্রহের কক্ষপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
  • হালকা গ্যাস মহাশূন্যে নির্গমনের প্রধান পথ।
  • মহাকাশ গবেষণা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere) MCQ Questions

  1. এক্সোস্ফিয়ার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর?
    A) প্রথম স্তর
    B) দ্বিতীয় স্তর
    C) চতুর্থ স্তর
    D) সর্বোচ্চ বা শেষ স্তর
    উত্তর: D) সর্বোচ্চ বা শেষ স্তর

  2. এক্সোস্ফিয়ার কোন স্তরের উপরে অবস্থিত?
    A) ট্রপোস্ফিয়ার
    B) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
    C) মেসোস্ফিয়ার
    D) থার্মোস্ফিয়ার
    উত্তর: D) থার্মোস্ফিয়ার

  3. এক্সোস্ফিয়ার সাধারণত কত উচ্চতা থেকে শুরু হয়?
    A) 12 কিমি
    B) 50 কিমি
    C) 500–1000 কিমি
    D) 10000 কিমি
    উত্তর: C) 500–1000 কিমি

  4. এক্সোস্ফিয়ারের নিম্ন সীমানাকে কী বলা হয়?
    A) ট্রপোপজ
    B) স্ট্র্যাটোপজ
    C) মেসোপজ
    D) এক্সোবেস (Exobase)
    উত্তর: D) এক্সোবেস (Exobase)

  5. এক্সোস্ফিয়ারের উপরের সীমা কোথায় শেষ হয়?
    A) 5000 কিমি
    B) 10000 কিমি
    C) চাঁদের কক্ষপথে
    D) নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই
    উত্তর: D) নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই

  6. এক্সোস্ফিয়ারের প্রধান গ্যাস কোনটি?
    A) অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
    B) কার্বন ডাই অক্সাইড ও আর্গন
    C) হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
    D) ওজোন ও নাইট্রোজেন
    উত্তর: C) হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম

  7. এক্সোস্ফিয়ারে বায়ুর ঘনত্ব কেমন?
    A) অত্যন্ত বেশি
    B) মাঝারি
    C) কম
    D) অত্যন্ত কম
    উত্তর: D) অত্যন্ত কম

  8. এক্সোস্ফিয়ারে গ্যাসীয় কণাগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ খুব কম হওয়ার কারণ—
    A) তাপমাত্রা কম
    B) চাপ বেশি
    C) কণাগুলো অনেক দূরে অবস্থান করে
    D) অক্সিজেনের অভাব
    উত্তর: C) কণাগুলো অনেক দূরে অবস্থান করে

  9. এক্সোস্ফিয়ারের তাপমাত্রা প্রায় কত হতে পারে?
    A) 100°C
    B) 500°C
    C) 1500°C বা তারও বেশি
    D) 50°C
    উত্তর: C) 1500°C বা তারও বেশি

  10. তাপমাত্রা বেশি হলেও এক্সোস্ফিয়ারে তাপ অনুভূত হয় না কেন?
    A) সূর্যের আলো পৌঁছায় না
    B) বায়ুর কণা অত্যন্ত কম
    C) সেখানে মাধ্যাকর্ষণ নেই
    D) সেখানে কেবল হিলিয়াম থাকে
    উত্তর: B) বায়ুর কণা অত্যন্ত কম

  11. Atmospheric Escape বলতে কী বোঝায়?
    A) বৃষ্টিপাত
    B) ঝড় সৃষ্টি
    C) গ্যাসের মহাশূন্যে পালিয়ে যাওয়া
    D) মেঘ গঠন
    উত্তর: C) গ্যাসের মহাশূন্যে পালিয়ে যাওয়া

  12. এক্সোস্ফিয়ার থেকে সহজে মহাশূন্যে পালিয়ে যেতে পারে—
    A) অক্সিজেন
    B) নাইট্রোজেন
    C) আর্গন
    D) হাইড্রোজেন
    উত্তর: D) হাইড্রোজেন

  13. কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য এক্সোস্ফিয়ার আদর্শ কারণ—
    A) এখানে মেঘ নেই
    B) এখানে বৃষ্টি হয় না
    C) Atmospheric Drag খুব কম
    D) এখানে অক্সিজেন বেশি
    উত্তর: C) Atmospheric Drag খুব কম

  14. নিচের কোনটি এক্সোস্ফিয়ারে অবস্থান করতে পারে?
    A) বজ্রপাত
    B) আবহাওয়া উপগ্রহ
    C) ওজোন স্তর
    D) মেঘ
    উত্তর: B) আবহাওয়া উপগ্রহ

  15. এক্সোস্ফিয়ারকে কী বলা হয়?
    A) ওজোন স্তর
    B) আবহাওয়া স্তর
    C) মহাশূন্যের প্রবেশদ্বার
    D) জীবমণ্ডল
    উত্তর: C) মহাশূন্যের প্রবেশদ্বার

Assertion – Reason MCQ

নির্দেশ:
A) Assertion ও Reason উভয়ই সত্য এবং Reason হলো Assertion-এর সঠিক ব্যাখ্যা।
B) Assertion ও Reason উভয়ই সত্য কিন্তু Reason সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
C) Assertion সত্য কিন্তু Reason মিথ্যা।
D) Assertion মিথ্যা কিন্তু Reason সত্য।
  1. Assertion (A): এক্সোস্ফিয়ারে বায়ুর ঘনত্ব অত্যন্ত কম।
    Reason (R): গ্যাসীয় কণাগুলো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে।
    উত্তর: A

  2. Assertion (A): এক্সোস্ফিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য উপযোগী।
    Reason (R): এখানে বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণ খুব কম।
    উত্তর: A
  1. নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি এক্সোস্ফিয়ারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
    A) ওজোনের সর্বাধিক ঘনত্ব
    B) আবহাওয়া পরিবর্তন
    C) Atmospheric Escape
    D) মেঘ গঠন
    উত্তর: C) Atmospheric Escape

  2. এক্সোস্ফিয়ারে প্রধানত কোন দুটি মৌলিক গ্যাস পাওয়া যায়?
    A) O₂ ও N₂
    B) CO₂ ও Ar
    C) H ও He
    D) O₃ ও H₂O
    উত্তর: C) H ও He

  3. নিচের কোন ঘটনাটি এক্সোস্ফিয়ারের সাথে সম্পর্কিত নয়?
    A) Satellite Orbit
    B) Atmospheric Escape
    C) Aurora Formation
    D) Hydrogen Loss to Space
    উত্তর: C) Aurora Formation