গে-লুসাকের সূত্র (Gay-Lussac's Law)

গে-লুসাকের সূত্র (Gay-Lussac's Law)


সূত্র: স্থির আয়তনে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের চাপ, তার পরম (বা কেলভিন) তাপমাত্রার সমানুপাতিক।

ধরি, স্থির আয়তনে কোনো গ্যাসের চাপ P এবং পরম তাপমাত্রা T

গে-লুসাকের সূত্র অনুযায়ী:

P ∝ T    (যখন আয়তন V এবং গ্যাসের ভর n স্থির)

P = kT    (এখানে k একটি ধ্রুবক বা Constant)

P/T = k

যদি কোনো গ্যাসের প্রাথমিক তাপমাত্রা T₁ এবং চাপ P₁ হয়, এবং তাপমাত্রা পরিবর্তন করে T₂ করার ফলে চাপ পরিবর্তিত হয়ে P₂ হয়, তবে সূত্রটিকে এভাবে লেখা যায়:

P₁/T₁ = P₂/T₂

তাপমাত্রা বাড়লে কেন চাপ বাড়ে? (সহজ ব্যাখ্যা)

গ্যাসের অণুগুলো সবসময় ছোটাছুটি করে এবং পাত্রের দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কার ফলেই চাপের সৃষ্টি হয়।

  • যখন আপনি গ্যাসের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেবেন, তখন অণুগুলো প্রচুর শক্তি পায় এবং আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ছুটতে শুরু করে।
  • গতি বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা পাত্রের দেওয়ালে আরও জোরে জোরে এবং ঘন ঘন ধাক্কা মারতে থাকে।
  • পাত্রের আয়তন যেহেতু স্থির (বাড়ানো বা কমানো যাচ্ছে না), তাই ভেতরে চাপ (Pressure) অনেক বেড়ে যায়।

বাস্তব জীবনের কিছু উদাহরণ (Real-life Examples)

প্রেসার কুকার (Pressure Cooker):

প্রেসার কুকারের ঢাকনা শক্তভাবে আটকানো থাকে বলে এর ভেতরের আয়তন বাড়ে না। কুকারটি যখন উনুনে গরম করা হয়, ভেতরের জলীয় বাষ্পের তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে চাপও প্রচণ্ড বেড়ে যায়। এই উচ্চ চাপের কারণে খাবার খুব দ্রুত সেদ্ধ হয়।

গাড়ির টায়ারের হাওয়া:

গরমকালে চাকার ভেতরের বায়ুর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আয়তন স্থির থাকায় গে-লুসাকের সূত্র অনুযায়ী টায়ারের ভেতরের বাতাসের চাপও অনেক বেড়ে যায়। এই কারণেই অতিরিক্ত গরমে মাঝে মাঝে গাড়ির টায়ার ফেটে যায়।

অ্যারোসল বা স্প্রে ক্যান:

বডি স্প্রে বা রঙের ক্যানের গায়ে লেখা থাকে "আগুনে ফেলবেন না বা রোদে রাখবেন না"। কারণ, ক্যানটি গরম হলে ভেতরের গ্যাসের তাপমাত্রা বাড়বে, ফলে চাপ এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে ক্যানটি বোমার মতো ফেটে যেতে পারে।