হ্যালোজেন (Cl, Br, I) সনাক্তকরণ: সিলভার নাইট্রেট পরীক্ষা (Silver Nitrate Test)

রসায়ন নোট • ল্যাসেঁ পরীক্ষা দ্বারা হ্যালোজেন সনাক্তকরণ

জৈবযৌগে হ্যালোজেন থাকলে সোডিয়াম ফিউশনের সময় তা সোডিয়াম হ্যালাইড, যেমন— সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম ব্রোমাইড (NaBr) অথবা সোডিয়াম আয়োডাইড (NaI)-এ রূপান্তরিত হয়। ল্যাবরেটরিতে এই হ্যালাইড আয়নগুলো সনাক্ত করার জন্য মূলত সিলভার নাইট্রেট পরীক্ষা (Silver Nitrate Test) করা হয়।

1. ল্যাবরেটরি পদ্ধতি (Experimental Procedure)

ধাপ ক: একটি টেস্ট টিউবে প্রায় ২ মিলি ল্যাসেঁ দ্রবণ নিন।
ধাপ খ: এবার এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা গাঢ় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) যোগ করে মিশ্রণটিকে বার্নারের শিখায় কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন এবং তারপর ঠাণ্ডা করুন। (এটি কেন করা হয়, তার কারণ নিচে দেওয়া হলো)
ধাপ গ: এবার এই ঠাণ্ডা মিশ্রণে সিলভার নাইট্রেট (AgNO3) দ্রবণ যোগ করুন এবং টেস্ট টিউবের তলানির অধঃক্ষেপটি লক্ষ্য করুন।
💡 পরীক্ষা করার আগে গাঢ় HNO3 দিয়ে ফোটানো কেন জরুরি? (Most Important Concept)

এটি পরীক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যদি জৈব যৌগটিতে হ্যালোজেনের পাশাপাশি নাইট্রোজেন (N) বা সালফার (S) উপস্থিত থাকে, তবে ল্যাসেঁ দ্রবণে যথাক্রমে সোডিয়াম সায়ানাইড (NaCN) এবং সোডিয়াম সালফাইড (Na2S) তৈরি হয়ে থাকে।

যদি গাঢ় HNO3 দিয়ে ফুটিয়ে এদের নষ্ট না করা হয়, তবে সিলভার নাইট্রেট যোগ করার সাথে সাথে তারা হ্যালোজেনের অধঃক্ষেপে বাধা দেবে এবং নিজেদের আলাদা অধঃক্ষেপ তৈরি করবে:

  • NaCN সিলভার নাইট্রেটের সাথে বিক্রিয়া করে AgCN-এর সাদা অধঃক্ষেপ ফেলবে।
  • Na2S সিলভার নাইট্রেটের সাথে বিক্রিয়া করে Ag2S-এর কালো অধঃক্ষেপ ফেলবে।
• নাইট্রিক অ্যাসিডের ভূমিকা: গাঢ় HNO3 দিয়ে ফোটালে তা দ্রবণে থাকা সায়ানাইড ও সালফাইড আয়নকে গ্যাস হিসেবে বের করে দিয়ে দ্রবণটিকে হ্যালাইড পরীক্ষার জন্য একদম মুক্ত করে দেয়:

NaCN + HNO3 → NaNO3 + HCN ↑ (হাইড্রোজেন সায়ানাইড গ্যাস)
Na2S + 2HNO3 → 2NaNO3 + H2S ↑ (হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস)

⚠️ এখানে HNO3-এর বদলে HCl বা H2SO4 কেন ব্যবহার করা যায় না?
যদি  অম্লীয় করার জন্য HCl ব্যবহার করেন, তবে HCl-এর নিজস্ব ক্লোরাইড আয়ন (Cl-) সিলভার নাইট্রেটের সাথে বিক্রিয়া করে নিজেই AgCl-এর সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি করবে। ফলে আসল যৌগে ক্লোরিন ছিল কিনা তা জানাই যাবে না।
যদি H2SO4 ব্যবহার করা হয়, তবে তা সিলভারের সাথে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে ল্যাবরেটরির অন্যান্য টেস্টে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তাই সিলভার নাইট্রেট পরীক্ষার ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত রাখতে সবসময় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) ব্যবহার করা হয়।

২. পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত (Observation & Inference)

সিলভার নাইট্রেট যোগ করার পর টেস্ট টিউবে কী ধরনের অধঃক্ষেপ পড়ছে, তার ওপর ভিত্তি করে হ্যালোজেনটি সনাক্ত করা হয়:

ক. ক্লোরিন (Cl) সনাক্তকরণ:

 পর্যবেক্ষণ: যদি টেস্ট টিউবের তলায় দইয়ের মতো সাদা অধঃক্ষেপ (Curdy White Precipitate) পড়ে এবং এই অধঃক্ষেপটি অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) দ্রবণে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে যায়, তবে যৌগটিতে ক্লোরিন (Cl) উপস্থিত।

[অধঃক্ষেপ গঠন]: NaCl + AgNO3AgCl↓ (সাদা অধঃক্ষেপ) + NaNO3
[NH4OH-এ দ্রবীভূত হওয়া]: AgCl + 2NH4OH → [Ag(NH3)2]Cl (দ্রবণীয় জটিল যৌগ) + 2H2O
খ. ব্রোমিন (Br) সনাক্তকরণ:

পর্যবেক্ষণ: যদি টেস্ট টিউবে হালকা হলুদ বা ফ্যাকাশে হলুদ রঙের অধঃক্ষেপ পড়ে এবং এই অধঃক্ষেপটি NH4OH দ্রবণে আংশিক বা অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়, তবে যৌগটিতে ব্রোমিন (Br) উপস্থিত।

[অধঃক্ষেপ গঠন]: NaBr + AgNO3AgBr↓ (হালকা হলুদ) + NaNO3
গ. আয়োডিন (I) সনাক্তকরণ:

 পর্যবেক্ষণ: যদি টেস্ট টিউবে গাঢ় হলুদ রঙের অধঃক্ষেপ পড়ে এবং এই অধঃক্ষেপটি NH4OH দ্রবণে একেবারেই দ্রবীভূত না হয় (সম্পূর্ণ অদ্রবণীয়), তবে যৌগটিতে আয়োডিন (I) উপস্থিত।

[অধঃক্ষেপ গঠন]: NaI + AgNO3AgI↓ (গাঢ় হলুদ) + NaNO3

💡 কুইজ: নিজের মেধা যাচাই করো

প্রশ্ন: ল্যাসেঁ দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট যোগ করার পর উৎপন্ন হালকা হলুদ অধঃক্ষেপটি NH4OH-এ আংশিক দ্রবীভূত হলে কোন হ্যালোজেনটি উপস্থিত?